শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন লেখক : শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ


"রুহামা পাবলিকেশন বিশেষ রিভিউ প্রতিযোগিতা অক্টোবর ২০১৯"


[শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন]

জীবনটা প্রতিযোগিতার ময়দান। তবে বোকাদের সেই প্রতিযোগিতা মোড় নেয় দুনিয়ার দিকে আর জ্ঞানীদেরটা চলে আখিরাতমুখী হয়ে। বোকাদের প্রতিযোগিতা কখনো কিছু অর্জন ছাড়াই তার চিরবিদায়ের ফলে থেমে যায়, কখনো বা তুচ্ছ কিছু অর্জিত হলেও তা এখানেই ছেড়ে দিয়ে স্থায়ী আবাস যাপনে যেতে হয় জ্ঞানীদের মূল গন্তব্যস্থলেই। অন্যদিকে জ্ঞানীরা প্রতিযোগিতা চলাকালীন আশপাশ থেকে আসা মিথ্যা হাতছানিতে সাড়া না দিয়ে ছুটে চলেন কেবল প্রতিযোগিতার আয়োজনকারীর দিকে, শুরু থেকে নিয়ে শেষ প্রতিটি কদমেই থাকে প্রতিযোগিতার পুরস্কার যিনি দিবেন তাকে খুশি রাখার নানান চেষ্ঠা। ফলে প্রতিযোগিতার সময়টুকুও তাদের ভালো কাটে, আর প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার তো আছেই।

সুতরাং সব প্রতিযোগীই তো আর প্রাইস উচিয়ে ধরতে পারবে না। ফেল্টুস কিছু তো থাকবেই। তবে আমি কেন তাদের একজন হতে যাব? সামান্য সময়ের সোজা পথে হাটা যদি আমাকে পুরস্কার হিসেবে এনে দিতে পারে চিরস্থায়ী শান্তির নিবাস, তাতে ক্ষতি কী? পুরোটাই লাভ। বক্ষ্যমান এই বইটা আপনাকে প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ের চলার রুটিন, প্রতিযোগিতার আয়োজনকারীকে সহজে খুশি করার উপায়, প্রতিযোগিতায় অল্পতে ভালো পয়েন্ট তুলে নেবার কৌশল সবিশেষ প্রতিযোগিতার পর বিজয়ীদের কাতারে নাম লেখাবার যাবতীয় করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিবে।

প্রতিযোগিতা চলাকালীন আপনাকে বোকাদের মতো অন্যদিকে মোড় ঘুরিয়ে দেবার জন্য কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলোর কিছু আপনার ভেতরের, কিছু আপনার বাইরের মালউন ইবলিস। এরা আপনাকে বিজয়ীদের কাতারে মোটেও দেখতে চায় না। এদের কাজই হলো, প্রতিযোগীদের কিভাবে হারানো যায়-- সেসব ফন্দি আঁটা। এসব করেই ওরা মজা পায়। তবে বইটি আপনাকে ওদের ফন্দিগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে যাবে প্রতিযোগিতা চলাকালীন পুরো সময়টা, যদি আপনি বইটিকে প্রতিযোগিতার পুরো সময়টা নিজের সঙ্গে রাখেন। আর যদি একবার পড়ে নিয়ে মনে গেথে নিতে পারেন ফন্দিগুলো নস্যাত করে দেবার উপায়, তবে তো কথাই নেই। তবে আমি মাঝে মাঝেই পড়ি। ভালো লাগে। বারংবারের পঠনে ওরা ধারে কাছে ঘেষে না, সাহসও করতে পারে না। কারণ ওদের ফন্দিগুলো পাত্তা না দেবার যাদুর কাঠি যে আমার সাথে আছে সে কথা তো আর ওদের অজানা নয়। তবুও কিছু থাকে না -বজ্জাত,পাজি। ওরা আগে পিছে ঘুর ঘুর করতে চায়, তবে যখনি এই যাদুর কাঠিটা ওদের সামনে ধরি, কোন পথে যে পালাবে ওরা, সেই পথই খুজে পায় না।

প্রিয় পাঠক, আমরা সবাই-ই মাঝপথের প্রতিযোগী। আমাদের সবার গন্তব্য ঘুরে ফিরে একটাই। সবাইকেই কবরে ঘুমাতে হবে। তবে প্রতিযোগিতার সময় কিন্তু নির্দিষ্ট করা নেই৷ মৃত্যুঘন্টাই মূলত সবার সময় নির্ধারণ করে থাকে। তাই জীবন নামক এই প্রতিযোগিতায় কিভাবে নিজেকে বিজয়ীদের তালিকায় দেখতে পাবেন সেসব দিকনির্দেশনা পেতে বইটি পড়ুন। বইটিতে কী লেখা আছে এটাই জানার বিষয় তো? হ্যা, আছে এমন কিছু নেক আমল প্যাকেজ ও উপকারী দিক নির্দেশনা, যা আপনাকে প্রতিযোগিতা শেষে রেজাল্টের জন্য পেরেশানিতে ফেলবে না, কবরে গিয়ে শান্তিতে ঘুমুতে পারবেন যেগুলোর কল্যাণে। সেগুলোর কথাই বলবে আপনাকে 'শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু নিদর্শন' বইটি। লিখেছেন শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ। তবে বইটি ছিল আরবি ভাষায়। আমাদের বাঙালীদের এত মূল্যবান বইটি পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন প্রিয় রুহামা পাবলিকেশন। আর আমাদের উপযোগী করে ভাষান্তর করেছেন ভাই হাসান মাসরুর। আল্লাহ তাদের সবাইকে উত্তম জাযা দান করুন!

বইয়ের ভেতরের বিস্তারিত রিভিউ কী লিখব? আমি তো বলব, এক কথায় রিভিউ হলো, ভাই! বইটি আপনি পড়ে ফেলুন! বার বার পড়ুন! আপনাকে ভাবতে শিখাবে, অলসতা ঝেড়ে ফেলে পরকালের সামান জোগাতে উদ্যমী করে তুলবে, প্রশান্তির সাথে বাচতে শিখাবে।

অল্প তেলে মচমচা বলে একটা কথা আছে বাংলায়। বইটি আপনাকে এমন কিছু কৌশল বাতলে দিবে, যাতে আপনার কাজ থাকবে কম, পাবেন বেশি। তাই বলে কী অল্প করেই ফাকির ফন্দি আটবেন নাকি আবার? নাহ, লেখক আপনাকে সেই সুযোগ দিলে তো! জান্নাতের যেই সুখ শান্তি! আহ! দুনিয়ার এক তলাকে যদি দুই তলা বানাতে চান তবে জান্নাতের তলা কেন বাড়াতে চাইবেন না আপনি!? যত পুঁজি বেশি নিয়ে যাবেন, এরিয়াও তত বড় পাবেন! কে না চায় চিরস্থায়ী জীবনে রাজার হালে থাকতে?

কবরে চলে গেলে তো আর আপনি কোনো পুঁজি জোগাতে পারবেন না, স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এটাই অনুমেয়। তবে অফার আছে কিছু, বুঝছেন? আফসোসের কথা হলো, অফারগুলোর কথা সবাই জানে না। বইটি আপনাকে এমন কিছু অফারের কথা বলবে, যা আপনি কবরে চলে গেলেও আপনার কাছে আখিরাতের পুঁজি ট্রান্সফার করতে থাকবে। ভাবা যায়! আর কী চাই? মরে গিয়েও বেচে থাকার কাজ হচ্ছে। ভালো না?

কিছু কাজ এমন আছে, যেগুলো করলে আপনার পুঁজিও অর্জন হবে, পাশাপাশি অন্যরাও পুঁজির পথ খুজে পাবে। বিষয়টা ভেবেছেন কখনো? আপনার পুঁজি তো আপনি ঠিকই বুঝে পেলেন, ফ্রীতে অন্যরা তাদেরও পুঁজির পথ পেয়ে গেল, এখন তারাও সে পথে গিয়ে নেক আমল কামাবে, সেখান থেকেও আপনাকে আল্লাহ তাদের আমল পরিমাণ পুঁজি দিয়ে দিবে। কেন দিবেন? কারণ, এই যে তারা আপনার উসিলায় পেল -তাই। ক---তো লাভ তাই না? ফ্রীতে এতকিছু! সুবহানাল্লাহ বলবেন না একবারো? এমন অবিশ্বাস্য খাজানার সন্ধান দিবে বইটি আপনাকে।

পকেটে টাকা নাই, পেটের দায়ে কাজ করেই কুলিয়ে উঠতে পারি না.......কত্ত সমস্যা! ঘাবড়াচ্ছেন কেন? তবুও কেন আপনার পুজি অর্জন থেমে থাকবে? অফার আছে তো। টাকা না থাকলেও সদকার সওয়াব পাবেন, পেটের দায়ে দুনিয়ার কাজ করতে থাকলেও আখিরাতের পুঁজিও হতে থাকবে। একের ভেতর সব। দেরি করছেন কেন? অফারগুলো চলবে আমৃত্যু। তবে মৃত্যুর ঘন্টা যে কখন বেজে উঠবে তা তো যার হাতে ঘন্টা শুধু তিনিই জানেন। তাই আর দেরি না করে বইটি পড়তে বসে পড়ুন! অফারগুলো জেনে নিন আর ঝটপট লুফে নিন অবিশ্বাস্য সব অফার।

বইটি খুব বড় না। একেবারেই ছোট্ট, তবে ঝাঝটা বেশি। আর প্রিয় রুহামার বই বলে কথা! কোয়ালিটিগত সমস্যার তো প্রশ্নই উঠে না।

বই : শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন
লেখক : শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
প্রকাশনী : রুহামা পাবলিকেশন্স
অনুবাদক : হাসান মাসরুর
পৃষ্ঠা : ১১২
মূল্য : ১৩৪ টাকা।

#ইসলামি_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

Post a Comment

Previous Post Next Post